দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পরিচয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন সদ্য সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। গত ২৫ অক্টোবর রাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও ২৭ অক্টোবর ‘রাকসু সাধারণ সম্পাদক’ পরিচয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমানকে চিঠি দেন তিনি। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, জরুরি প্রয়োজনে চিঠি দিতে হলে ‘সাবেক’ পরিচয় উল্লেখ করতে হবে।
রাকসুর পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার বিষয়ে দেওয়া ওই চিঠিতে আম্মার উল্লেখ করেন, রাকসুর ষষ্ঠ অধিবেশনে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রস্তুত, খসড়া সংবিধান পর্যালোচনা, সংশোধন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব কোষাধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে চিঠিতে দাবি করেন তিনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি এক পত্রের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে যাবতীয় ভাউচার জমা দেওয়া এবং নিজ নিজ দাপ্তরিক কক্ষ কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।
আম্মার চিঠিতে লেখেন, রাকসু নির্বাচন নিয়ে তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান প্রতিনিধিদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী রাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান সালাহউদ্দিন আম্মারকে একটি চিঠি দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২৫ অক্টোবর রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘উনি এখন সাবেক জিএস। এর বাইরে জিএস পরিচয় তিনি কীভাবে দিয়েছেন, সেটি আমার জানা নেই। এর পাশাপাশি তিনি আমাকে তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেছেন, সেই এখতিয়ার আমার নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন উপাচার্য গঠন করবেন এবং সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন নেবেন। এই প্রক্রিয়ায় আমি কোনো দায়িত্বশীল জায়গায় নেই। ওই অধিবেশনে উপাচার্য আমার কাছে পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন ও পরিচালনাকারীদের ফাইল চেয়েছিলেন, আমি সেটি পাঠিয়েছি। এর বাইরে আমার কোনো সংযুক্ততা নেই।’
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্ধারিত সময়েই মেয়াদ পূর্ণ করেছে। এখন রাকসুর কারও পদের পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই। জরুরি ক্ষেত্রে হলে, সেখানে সাবেক লিখতে হবে।’
পরবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘সামনে ভর্তি পরীক্ষার বড় আয়োজন রয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। ভর্তি পরীক্ষার পর আমরা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের বিষয়ে মনোযোগ দেব।’
মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জিএস পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে জানতে সালাহউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যে আই